Blog
রমজান পরিচিত সমস্যা কোষ্ঠকাঠিন্য
রমজান পরিচিত সমস্যা কোষ্ঠকাঠিন্য
রমজান মাসে আমাদের অনেকের মধ্যেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়। এর মূল কারণ হলো ইফতার ও সেহরিতে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এবং মাংস জাতীয় খাবারের আধিক্য। এছাড়া সারা দিন পানি ও তরল খাবার গ্রহণ না করা এবং খাদ্যে পর্যাপ্ত আঁশ না থাকার ফলে এই সমস্যা প্রকট হয়। তবে সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই রোজার সময় কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সারাদিন পানি না খাওয়ার ফলে প্রায় সব রোজাদারেরই কম-বেশি কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এর ফলে পায়ুপথের বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়, বিশেষ করে পাইলস ও অ্যানাল ফিসার রোগে আক্রান্তরা বেশি কষ্ট পান।
রমজান পরিচিত সমস্যা কোষ্ঠকাঠিন্য কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে অনেকেই মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করেন, যা মলদ্বারের রক্তনালি ফুলিয়ে দেয় বা ছিঁড়ে ফেলে। এতে প্রচুর রক্তপাত হতে পারে এবং শক্ত মলের কারণে মলদ্বার ফেটে গিয়ে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হয়। এই ব্যথার কারণে রোগী স্বাভাবিক কাজ করতে পারেন না এবং অনেক সময় রক্তপাতের ফলে বা অসহ্য যন্ত্রণায় রোজা ভেঙে ফেলতে বাধ্য হন। ফলে তারা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান যে পরবর্তী রোজাগুলো রাখতে পারবেন কি না। রোজার সময় কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে প্রচুর পানি পান করা জরুরি। ইফতারের সময় পর্যাপ্ত পানি ও তরল গ্রহণ করতে হবে। ডাবের পানি, শরবত বা প্রাকৃতিক ফলের রস পান করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। তবে বাজারের প্যাকেটজাত জুস থেকে সাবধান থাকতে হবে, কারণ এগুলো উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে। ফলের রসের চেয়ে সরাসরি তাজা ফল খাওয়া বেশি কার্যকর। এছাড়া খাদ্যতালিকায় লাল আটা, ছোলা, শাকসবজি ও ফলমূলের মতো আঁশযুক্ত খাবার বেশি করে রাখতে হবে। কিছু খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়িয়ে দেয়, তাই রমজানে চিনি, মিষ্টি, কেক, পেস্ট্রি ও চকোলেট জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। রোজার সময় খেজুর খাওয়া অত্যন্ত উপকারী, কারণ এতে থাকা প্রচুর আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। সাধারণত রমজানে ভাজাপোড়া খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, যা মুখরোচক হলেও শরীরের জন্য ক্ষতিকর; তাই এগুলো কমানো উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত মলত্যাগের অভ্যাস বজায় রাখলে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমে। যদি ঘরোয়া উপায়ে সমস্যা সমাধান না হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পায়খানা নরম করার ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যকে কখনোই অবহেলা করা ঠিক নয়, কারণ এটি থেকে পরবর্তীতে পাইলস বা ফিসারের মতো মলদ্বারের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা হতে পারে। তবে এই সমস্যার ভয়ে রোজা ছেড়ে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। বরং আলোচিত নিয়মগুলো মেনে চললে সহজেই কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এভাবে সচেতন হয়ে আমরা সবাই যেন সুস্থভাবে রমজানের প্রতিটি রোজা পালন করতে পারি।